মিরসরাই প্রতিনিধি: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের (৮৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে (১৪ মে) নিজ এলাকা মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
এসময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।
জানাজায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মেজ ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘আজ মিরসরাইবাসীর জন্য অনেক কষ্টের দিন। দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমার বাবা চট্টগ্রাম তথা মিরসাইয়ের উন্নয়নের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যাতে বাধা দেওয়া না হয় সেজন্য বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন।
তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, বৃহস্পতিবার মিরসরাই উপজেলার কোথাও আমাদের কোনো দলীয় কর্মসূচি নেই। সুতরাং সংগঠনের নামে কোনো ব্যক্তি কর্মসূচির কথা বলে জনমনে এবং নেতাকর্মীদের মাঝে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেই বিষয়ে সকল নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওইদিনই বিকেল ৫টায় গুলশান আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আইএনবি/বিভূঁইয়া