আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংগ্রহ করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হবে। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সেজন্যই এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত শুক্রবার এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিনের বডিগার্ডরা এই বর্জ্য সংগ্রহ করে সিলগালা ব্রিফকেসে করে বিমানে তুলে দেন। এর আগে ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলাস্কা সফরের সময়ও পুতিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল। বিসিবি-র প্রাক্তন সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভা জানান, ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব শুরুর পর থেকেই পুতিন এই নিয়ম মেনে চলছেন এবং বিদেশ সফরে বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেট ব্যবহার করেন।
রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস বা এফএসও পুতিনের বিদেশ সফরের এই চরম গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পেছনে রয়েছে এক অদৃশ্য নিরাপত্তার জাল, যার মধ্যে এলিট প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের বা এসবিপি-র বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা কাজ করেন। এই রক্ষীদের বয়স ৩৫ বছরের কম, উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষ প্রস্তুত হতে হয়। পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ এড়াতে তার প্রতিটি খাবার তৈরির আগে উপাদান ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি সেই খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা খেয়ে পরীক্ষা করেন। পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড এবং রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আদা বা গোলাপের চা পান করেন।
বিদেশ সফরে পুতিন গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ আউরাস সেনাট লিমুজিন গাড়ি ও ডুমসডে প্লেনে ভ্রমণ করেন। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টার এবং পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, অফিস : ১৪ কাকরাইল রোড, (৫ম তলা) শান্তিনগর বাজার, ঢাকা-১২১৭। মোবাইল : ০১৮১৭০৬২৩৪৪, ০১৭১২৩৫৭১৫৪ ইমেইল : inbnews2010@gmail.com
© All rights reserved © INBNews