আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব এবং চরম বৈষম্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। আন্দোলনস্থলে বহু তরুণের হাতে শোভা পাওয়া কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে একটি বিশেষ স্লোগান দেখা গেছে—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।
আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু) এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ (এটি অন্ধকার)—এই দুই ভাষার মিশ্রণে গঠিত বাক্যটি আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হলেও তা ফরাসি আন্দোলনকারী তরুণদের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ ও প্রজন্মগত ব্যবধানের এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্লোগানটির উৎপত্তি ও রহস্য
এই স্লোগানের সূত্রপাত মূলত মেসেজিং অ্যাপ ‘স্ন্যাপচ্যাট’-এর একটি বার্তা থেকে। শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আরবি ও ফরাসি ভাষার অদক্ষ মিশেলে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ লিখে বার্তা পাঠায়, যার শেষে লেখা ছিল—‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ বার্তাগুলো মামাদৌ বা আবদুল্লাহর মতো আফ্রিকান ও আরব নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি যুক্ত ভুয়া প্রোফাইল থেকে পাঠানো হয়েছিল।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত ধরে ফেলে যে, বার্তাটি কোনো সাধারণ তরুণের নয়। আন্দোলনকারীদের তীব্র সন্দেহ, ফরাসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী সেজে চ্যাট গ্রুপে ঢোকার এবং ভাঙচুর চালানোর উসকানি দেওয়ার অপচেষ্টা করছিলেন। পুলিশ যেভাবে কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব ফরাসিদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নেত করার অন্ধবিশ্বাস (stereotypes) পোষণ করে, বার্তাটির ভাষা হুবহু তেমনই ছিল। তরুণেরা পুলিশের এই আনাড়ি ছদ্মবেশ ধারণকে হাস্যকর মনে করে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল রূপ নেয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক ছড়িয়ে পড়া
ঘটনার বিষয়ে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি না দিলেও তারা জানিয়েছে, অনলাইনে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাতে পুলিশ কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে ছদ্মনামে যোগাযোগ পরিচালনা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা এই বাক্যটিকেই ব্যঙ্গাত্মক স্লোগানে রূপান্তর করে রাজপথে নামায়, যা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয়—আন্দোলনে নজরদারি করার পুলিশি অপচেষ্টা তাদের চোখ এড়ায়নি।
ফরাসি তরুণদের সীমান্ত পেরিয়ে এই স্লোগান এখন বেলজিয়াম, জার্মানি এমনকি গ্রেটা থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিক পরিবেশকর্মীদের সংহতিমূলক ভিডিওতেও জায়গা করে নিয়েছে। ঠিক যেমন ভারতে প্রধান বিচারপতির ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল ‘কাকরোচ আন্দোলন’, তেমনি ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরাও কর্তৃপক্ষের অন্ধবিশ্বাস ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে উপহাস করে এই স্লোগানকে তাদের আন্দোলনের প্রধান অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছে।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, অফিস : ১৪ কাকরাইল রোড, (৫ম তলা) শান্তিনগর বাজার, ঢাকা-১২১৭। মোবাইল : ০১৮১৭০৬২৩৪৪, ০১৭১২৩৫৭১৫৪ ইমেইল : inbnews2010@gmail.com
© All rights reserved © INBNews