কক্সবাজার প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ কখনও গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিসের হাসিনা, কোথায় বক্তব্য দিয়েছে, তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।’
আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সেসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার অনুমতি কোনোদিনই দেবে না।’
আওয়ামী লীগের বিদেশ থেকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।’
অপহরণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অপহরণসহ এ ধরনের অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি মহোদয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আমরা তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। আশা করছি, এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
এর আগে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব.
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইতঃপূর্বে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ।
আইএনবি/বিভূঁইয়া
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ, অফিস : ১৪ কাকরাইল রোড, (৫ম তলা) শান্তিনগর বাজার, ঢাকা-১২১৭। মোবাইল : ০১৮১৭০৬২৩৪৪, ০১৭১২৩৫৭১৫৪ ইমেইল : inbnews2010@gmail.com
© All rights reserved © INBNews