ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া জগলুল পাশা গ্রেপ্তার Logo জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo ১৫ মাস পর দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন Logo পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গাজীপুরে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় বিচারের মুখে হাসিনা-হারুনসহ ১০ জন Logo ঢাকার চারপাশে সচল হবে নৌপথ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা Logo রাজধানীর দুই মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু Logo আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী Logo নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহকে (ভিডিও)

সপরিবারে নিরুদ্দেশ বেনজির আহমেদ

আইএনবি ডেস্ক:পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছে না। গত কদিন ধরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি দেশে আছেন, নাকি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

সরকারি দপ্তরগুলোও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের কেউ বলছে, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন, কেউ বলছে দুবাইয়ে আছেন, আবার কেউ বলছে দেশেই আছেন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে তাঁর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাই বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের অবস্থান নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

সাবেক এই আইজিপি অবসর গ্রহণের পর গুলশানের একটি বাড়িতে থাকতেন এবং এই বাড়িতে তিনি চারটি ফ্ল্যাট কিনে বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেই বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজধানীর র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে বেনজীর আহমেদের খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয়, তিনি সেখানে নেই। তাহলে বেনজীর আহমেদ কোথায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, তাঁর যে ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোয় উল্লেখ করার মতো টাকা-পয়সা নেই।

অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হতে পারে, আগেই এমন অনুমান থেকে বেনজীর আহমেদ সব টাকা তুলে নিয়েছেন।
এ ছাড়া কয়েকটি ক্রোক হওয়া জমি বেনজীর আহমেদ বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ধারণা, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরই তিনি দেশে তাঁর সম্পদ গুটিয়ে, ব্যাংকের সব টাকা সরিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারেনি।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ।

এর আগে তিনি ডিএমপির কমিশনার ও র‌্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সরিয়ে নেওয়া এই টাকার পরিমাণ কয়েক শ কোটি হতে পারে। আর তা সরানো হয়েছে আদালতের আদেশে দুদক কর্তৃক বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আগে।

এদিকে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের উত্স খুঁজতে তাঁদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন কর্মকর্তা।

বেনজীর আহমেদের দেশের বাইরে যেতে কোনো নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে কি না জানতে চাইলে গত ২৭ মে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানকারী দল দেখছে। তারা সিদ্ধান্ত জানালে তবেই আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হবে। প্রয়োজন মনে করলে আদালতে বেনজীরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাইবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে সেটি তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষ হলে সব কিছু বিশদভাবে বলা যাবে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ

সপরিবারে নিরুদ্দেশ বেনজির আহমেদ

আপডেট সময় ০৬:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪

আইএনবি ডেস্ক:পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছে না। গত কদিন ধরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি দেশে আছেন, নাকি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

সরকারি দপ্তরগুলোও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের কেউ বলছে, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন, কেউ বলছে দুবাইয়ে আছেন, আবার কেউ বলছে দেশেই আছেন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে তাঁর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাই বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের অবস্থান নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

সাবেক এই আইজিপি অবসর গ্রহণের পর গুলশানের একটি বাড়িতে থাকতেন এবং এই বাড়িতে তিনি চারটি ফ্ল্যাট কিনে বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেই বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজধানীর র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে বেনজীর আহমেদের খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয়, তিনি সেখানে নেই। তাহলে বেনজীর আহমেদ কোথায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, তাঁর যে ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোয় উল্লেখ করার মতো টাকা-পয়সা নেই।

অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হতে পারে, আগেই এমন অনুমান থেকে বেনজীর আহমেদ সব টাকা তুলে নিয়েছেন।
এ ছাড়া কয়েকটি ক্রোক হওয়া জমি বেনজীর আহমেদ বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ধারণা, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরই তিনি দেশে তাঁর সম্পদ গুটিয়ে, ব্যাংকের সব টাকা সরিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারেনি।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ।

এর আগে তিনি ডিএমপির কমিশনার ও র‌্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সরিয়ে নেওয়া এই টাকার পরিমাণ কয়েক শ কোটি হতে পারে। আর তা সরানো হয়েছে আদালতের আদেশে দুদক কর্তৃক বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আগে।

এদিকে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের উত্স খুঁজতে তাঁদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন কর্মকর্তা।

বেনজীর আহমেদের দেশের বাইরে যেতে কোনো নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে কি না জানতে চাইলে গত ২৭ মে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানকারী দল দেখছে। তারা সিদ্ধান্ত জানালে তবেই আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হবে। প্রয়োজন মনে করলে আদালতে বেনজীরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাইবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে সেটি তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষ হলে সব কিছু বিশদভাবে বলা যাবে।

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট