ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মেজর (অব.) মোজাফফর ৪৫ বছর পর আটক Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ Logo প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার :শিক্ষামন্ত্রী Logo সংসদে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লায় নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা Logo বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি Logo জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার   Logo রাতের মধ্যে ১৯ অঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo  ধেয়ে আসছে ২০০ কিমি গতির তুফান

সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছেন গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক

আইএনবি ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য তিনি জাতীয় সংসদ ভবন থেকে আমন্ত্রণপত্রও সংগ্রহ করেছেন। নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি তার জীবনের বড় পাওয়া।

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী গোলাম নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরিবারসহ রাজধানীর মহাখালীতে বসবাস করতেন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী–সেতুর নিচে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ তাকে একটি রিকশায় তুলে দিলে রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দিলে তিনি নাফিজকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে চলে যান।

গুলিবিদ্ধ নাফিজকে রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয়। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা এই ছবি দেখেই মা-বাবা হাসপাতালের মর্গে খুঁজে পান ছেলের মরদেহ।

সে সময় দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ রিকশার পাদানিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নাফিজের কয়েকটি ছবি তোলেন। পরে ৪ আগস্ট রাতের পর সেই ছবি পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবির মাধ্যমেই নাফিজের পরিবার তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

ছবিতে রিকশার পেছনে থাকা একটি মুঠোফোন নম্বর দেখে নাফিজের পরিবারের সদস্যরা নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

ঘটনার পর নূর মোহাম্মদ জানান, সেদিন তিনি ফার্মগেটে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। তখন এক পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে গেলে অন্যরা তার রিকশায় একজনকে তুলে দেন। প্রথমে তিনি ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়ি এলাকায় গেলে কয়েকজন নাফিজকে একটি অটোরিকশায় তুলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের সেই রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। এক ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় রিকশাটি কিনেছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট
Tag :

ভিসা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতে ৪ জনের রিমান্ড, আসামিদের ওপর ভুক্তভোগীদের হামলার চেষ্টা

সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছেন গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক

আপডেট সময় ০৪:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আইএনবি ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য তিনি জাতীয় সংসদ ভবন থেকে আমন্ত্রণপত্রও সংগ্রহ করেছেন। নূর মোহাম্মদ বলেন, এটি তার জীবনের বড় পাওয়া।

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী গোলাম নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরিবারসহ রাজধানীর মহাখালীতে বসবাস করতেন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী–সেতুর নিচে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ তাকে একটি রিকশায় তুলে দিলে রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দিলে তিনি নাফিজকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে চলে যান।

গুলিবিদ্ধ নাফিজকে রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয়। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা এই ছবি দেখেই মা-বাবা হাসপাতালের মর্গে খুঁজে পান ছেলের মরদেহ।

সে সময় দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ রিকশার পাদানিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নাফিজের কয়েকটি ছবি তোলেন। পরে ৪ আগস্ট রাতের পর সেই ছবি পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবির মাধ্যমেই নাফিজের পরিবার তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

ছবিতে রিকশার পেছনে থাকা একটি মুঠোফোন নম্বর দেখে নাফিজের পরিবারের সদস্যরা নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

ঘটনার পর নূর মোহাম্মদ জানান, সেদিন তিনি ফার্মগেটে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। তখন এক পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে গেলে অন্যরা তার রিকশায় একজনকে তুলে দেন। প্রথমে তিনি ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়ি এলাকায় গেলে কয়েকজন নাফিজকে একটি অটোরিকশায় তুলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের সেই রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। এক ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় রিকশাটি কিনেছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট