/* */
Dhaka , Wednesday, 26 August 2026

ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সিলেট-নেত্রকোনায় বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

Update Time : 05:36:49 pm, Monday, 20 July 2026

আইএনবি ডেস্ক: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে । সংস্থাটি জানিয়েছে, তিনটি নদীর চারটি স্টেশনে পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

আইএনবি/বিভূঁইয়া


প্রিন্ট