চাঁদা দাবির ফোনালাপ ফাঁস, ফেনী কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানের চাঁদা দাবির একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনার পর তাকে দলটির সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী জেলা শাখার অধীন ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন বলেন, আমরাও ইতোমধ্যে বিষয়টি অবগত হয়েছি। কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটিকাটাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রদল নেতার মধ্যে চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল হওয়া প্রায় ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই ফোনালাপে শোনা যায়, অভিযুক্ত নোমানুল হক নোমান রামপুর নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার তাহাদ ইফতুর কাছে মাটি পরিবহনের জন্য ১৬ হাজার টাকা দাবি করছেন। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর সড়ক দিয়ে ৭ দিন মাটি পরিবহন করতে হলে এ টাকা দিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অডিওতে নোমানকে বলতে শোনা যায়, এটা সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত। টাকা না দিলে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। জবাবে ইফতু বলেন, ‘নিজ দলের লোক হয়ে টাকা দিয়ে গাড়ি চালানো হবে লজ্জার।

এক পর্যায়ে নোমান বলেন, এসব পোলাপানের চা-নাশতার টাকা, সবাই এটা দেয়’। তিনি রাত ১০টার পর মাটির গাড়ি চালানোর পরামর্শও দেন।

অন্যদিকে ইফতু প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি কি চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করব? উত্তরে নোমান বলেকে চাঁন, তুই যদি এটাকে চাঁদা মনে করস, কিছু করার নাই।’

আইএনবি/বিভূঁইয়া