গণঅধিকার পরিষদের নেতার বিয়েতে ‘ডিজেল’ উপহার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার বিয়েতে প্রচলিত উপহারের পরিবর্তে অতিথিরা বরের হাতে উপহার হিসেবে ডিজেল তুলে দেন।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের বিয়ের অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ডিজেলভর্তি একটি পাত্র উপহার দেন।

বিয়ে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী উপহারটি আলোচনায় আসে গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আতিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তেলের তীব্র সংকট মোকাবেলায় নতুন জামাই-বউকে তৈল মর্দন।’

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনটির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. মহসিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহমুদ, সিনিয়র সহসভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আতিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল মৃধাসহ জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে একটি ৫ লিটারের পাত্রে প্রায় ৩ লিটার ডিজেল ভরে বর ও কনের হাতে তুলে দেন। এ সময় তারা উপস্থিত অতিথিদের সামনে প্রতীকীভাবে এই উপহার প্রদান করেন, যা জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক হুসাইনের ছেলে ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক এবং উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে একই উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মরহুম মো. শহিদুল ইসলাম খানের মেয়ে শারমিন স্বর্ণার বিবাহ অনুষ্ঠানে এ ব্যতিক্রমধর্মী উপহার প্রদান করা হয়।

ডিজেল উপহার প্রদানকারী অতিথিদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃষি, মৎস্য ও পরিবহন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, জেলেরা নদীতে যেতে পারছেন না। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষও চাপে পড়েছেন।

পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে ডিজেল এখন শুধু জ্বালানি নয়, মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান বিয়েতে আগত ডিজেল উপহার প্রদানকারী অতিথিরা।

আইএনবি/বিভূঁইয়া