আইএনবি ডেস্ক: কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিশু জিহাদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তে ভুক্তভোগীকে জীবিত পাওয়ায় মামলাটিকে তথ্যগত ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এ আদেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর জানান, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা গেছে—এটি হত্যা মামলা হিসেবে দায়ের হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছেন। তিনি কেবল আহত হয়েছেন এবং নিজেও আদালতে তা স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলাটি দায়ের করেন জিহাদের বাবা জহিরুল ইসলাম রাজু। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার ছেলে নিহত হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা ও আরও ১২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জিহাদ মারা যায়নি; বরং বাসস্থান ও আর্থিক প্রলোভনে তাকে মৃত দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বদিয়ার রহমান প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অন্যত্র আহত হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
এ প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটিকে তথ্যগতভাবে অসঙ্গত মনে করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
আইএনবি/বিভূঁইয়া