বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যত আয়োজন

আইএনবি নিউজ:  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কাউন্টডাউন বা ক্ষণগণনা শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে চলছে নানা প্রস্তুতি। এ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার হাতে নেওয়া সব কর্মসূচি সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে তারা। এর বাইরেও পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ উৎযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে এবং জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। এসব কমিটির বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে সব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মুজিববর্ষ সফল করতে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির গঠিত ৮টি উপকমিটি কাজ করছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিদেশি মেহমানরা। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মের শতবর্ষ পদার্পণের মুহূর্তে এ অনুষ্ঠান হবে। ওই দিন থেকে শুরু হবে জন্মশতবার্ষিকীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠান। চলবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

সূত্রমতে, ওই দিন দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ে ও দেশব্যাপী জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা করবে তারা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করা হবে। এ জন্য নীতিমালা প্রণয়নসহ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অনুষ্ঠান আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়েওে নির্দেশনা দেবে তারা।

আগামী বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ অনুষ্ঠান আয়োজনে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিকে সব ধরনের সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বাংলা ও ইংরেজিতে জন্মশতবার্ষিকীর স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে জাতীয় বাস্তাবায়ন কমিটিকেও সহায়তা দেবে তারা। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু গৃহীত পদক্ষেপ, প্রণীত আইন, বিধিমালা বিষয়ে সংকলন প্রকাশ করবে মন্ত্রিরিষদ বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বছরব্যাপী উদযাপিত হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সব অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোনও না কোনোভাবে সম্পৃক্ত থাকবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ উপলক্ষে সরকার গঠিত দুটি কমিটিকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে মন্ত্রিরিষদ বিভাগ।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শেখ রেহানাসহ ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসংখ্যা ৬১। গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে মন্ত্রিসভা বিভাগ। উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘এই আয়োজনে সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

আইএনবি/এনএম