ঠাণ্ডার লক্ষণ শুরু হলে যা করবেন এবং যা করবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক:এই সময় সবারই ঠাণ্ডা লাগছে। এই অসুখে শান্তি পাবেন না সহজে। মাথা ব্যথা, গা ব্যথা, নাক বন্ধ, খুব ক্লান্ত লাগা লেগেই থাকে। আর নাক দিয়ে পানি পড়া তো আছেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, ফ্লু হলো অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ। যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে হয়। এটি নাক, গলা এবং ফুসফুসকে সংক্রমিত করে। ফ্লুর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশী বা শরীরের ব্যথা, জ্বর বা ঠান্ডা লাগা, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, গলা ব্যথা, কাশি, ডায়রিয়া এবং বমি। কিছু মানুষ এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ অনেক দিন ধরে ভুগতে থাকে। আবার অন্য দিকে চলে যেতে পারে যেমন, সাইনাস, কানে ইনফেকশন, নিউমোনিয়া এমনকি মৃত্যুও। যাইহোক নিজের যত্ন নিতে হবে। ঠাণ্ডা লাগলে কি করবেন আর কি করবেন না জেনে নিন।ঠাণ্ডা লাগলে সম্ভব হলে কাজে বের না হওয়া ভালো। শিশুদেরও স্কুলে না পাঠানো ভালো। কারণ এটা বাকিদের মধ্যেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার প্রথম তিনদিন খুব সংক্রামক। জ্বর আসলে সেটা ছেড়ে যাওয়ার পরে ২৪ ঘণ্টা বাসায় থাকা ভালো। যদি জ্বর না আসে তাহলে লক্ষণ শুরু হওয়ার পর প্রথম ৪ থেকে ৫দিন বাসায় থাকা ভালো।

যা করবেন না: আমরা জানি ব্যায়াম আমাদের শরীরের জন্য খুব ভালো। কিন্তু ঠাণ্ডার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা ভালো। ভারী ব্যায়াম করলে আপনার রোগ প্রতিরোগ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে অবস্থা আরো খারাপ বানিয়ে ফেলতে পারে।

মায়ো ক্লিনিক অনুসারে, যদি বুকে কফ জমে থাকে বা টাইট হয়ে থাকে, কাশি বা পেট খারাপ, জ্বর, পেশীর ব্যথা থাকলে ব্যায়াম করা উচিত নয়। আর শরীরের আবস্থা যদি ভালো থাকে তাহলে ঠাণ্ডা লাগলেও হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

যা করবেন: ফ্লুর মতো লক্ষণ প্রকাশ পেলেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে। কারণ এটি আস্তে আস্তে বেড়ে গেলে সমস্যা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুসারে, যাদের ঝুঁকি বেশি তাদের সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যেমন যাদের বয়স ৬৫বছর বা বেশি, যাদের ঠণ্ডার সমস্যা রয়েছে বা অ্যাজমার সমস্যা আছে। আবার যারা গর্ভবতী বা অন্য কোনো রোগে ভুগছেন। এদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যা গুরুত্বর হয়ে যেতে পারে।

যা করবেন না: জ্বর হলে সেটা কমানোর জন্য গোসল করবেন না। জ্বর আসা মানে শরীর জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আপনি যখন জ্বর জ্বর অনুভব করবেন সাথে ঘামবেন তখন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। কিন্তু ডাক্তাররা এটাও নিষেধ করে থাকে। যদি গা ব্যথা থাকে তাহলে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে ফেলতে পারেন। তবে বেশি বেশি তরল খাবার খেতে হবে এই সময়।

যা করবেন: ঠাণ্ডার লক্ষণ শুরু হলে ঘরোয়া উপায়ে দূর করার চেষ্টা করতে হবে। যেমন বেশি বেশি গরম তরল খাবার খাওয়া, পানি পান করা, জুস খাওয়া ইত্যাদি। এ ছাড়া গরম পানি ও লবণ দিয়ে গড়গড়া করা এবং প্রচুর বিশ্রাম নেওয়া। পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

যা করবেন না: শরীর খারাপ হলে হাতের কাছে যা পাবেন সেই ওষুধ খাওয়া শুরু করবেন না। অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করে দেয় যেটা অবশ্যই করা উচিত না। ডাক্তারের পরামর্শে সব সময় ওষুধ সেবন করুন।

যা করবেন: নাকে সর্দি জমা হলে ঝেড়ে ফেলে দিন। জমিয়ে রেখে নাক টেনে যাবেন না। তেমনি চেষ্টা করুন কফ উঠে আসলে ফেলে দেওয়া। অনেকে গিলে ফেলে যেটা করা উচিত নয়। হাঁচি কাশি দিলে সেটা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করুন। একটু বেশি বেশি হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এই সময়।

যা করবেন না: যে খাবারগুলো হজমে সমস্যা সেগুলো খাবেন না। সহজে হজম হয় এমন খাবার খান। ক্যাফেইন, চিনি , দুগ্ধজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন। হারবাল চা খেতে পারেন। জুস, সুপ এগুলোও খেতে পারেন।

যা করবেন: ঠান্ডা বেশি বেশি মনে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি বলে দিবে আপনার ওষুধের প্রয়োজন আছে কি নেই। অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন থাকলে সেটাও বলে দিবে।

যা করবেন না: যখন বিশ্রাম নিবেন একদম সোজা হয়ে শুবেন না। কাশি বা নাক বন্ধ থাকলে তো আরো নয়। কারণ শ্বাস নিতে সমস্যা হবে। মাথার পেছনে একটা বালিশ দিয়ে একটু উঁচু করে তারপর বিশ্রাম নিবেন।

সূত্র: হেল্থ ডাইজেস্ট।

আইএনবি/বিভূঁইয়া