সাংবাদিক বাবুল ভূঁইয়ার লেখা প্রেতাত্মা (১ম পর্ব)

14

নিজস্ব রিপোর্ট:

আসাদ এবং তার স্ত্রী বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছে বাসের জন্য। হঠাৎ একটা বিদেশী মেয়েকে বাংলা বলতে শোনে আসাদের স্ত্রী তার সাথে ভাব জমিয়ে দিলো। কথার ফাঁকে বাড়ির ঠিকানাও মেয়েটিকে বলে দিলো।

কিছুদিন পর আচমকা মেয়েটি তাদের বাসায় এসে উপস্থিত। সেই সময় বিদেশী মেয়েটি প্রেগন্যান্ট ছিলো। লোকটি অফিস থেকে এসে মেয়েটিকে দেখে তার স্ত্রীকে বললো মেয়েটি বাসায় আসলো কি করে?

সন্ধ্যা শেষ হয়ে রাত হয়ে গেলো। ভদ্রতাস্বরুপ আসদের স্ত্রী মেয়েটিকে রাতের খাবার খেয়ে যেতে বললো। তাতে বিদেশী মেয়েটি রাজি হয়ে গেলো। যথাসময়ে খাবারের জন্য মেয়েটিকে ডাকা হলো। সে তখন বাতরুমে গেলো ফ্রেশ হতে। টেবিলে আসাদ এবং তার স্ত্রী মেয়েটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। হঠাৎ আচমকা কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ শোনে আসাদ ড্রইংরুমে দৌঁড়ে গেলো। এদিক সেদিক তাকাতেই চোখ পড়লো কার্পেটের উপর। দেখলো তার পরিবারের সবার ছবিযুক্ত ফ্রেমটা পরে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অবাক হওয়ার বিষয় হলো…ফ্রেমটা অনেক উপরে ছিলো সেখান থেকে পরার কোন সুযোগই ছিলোনা। তাছাড়া বিদেশী মহিলাটিও বাতরুমে.. তাহলে কে ভাঙ্গলো!! শব্দটা শোনে বুঝা গেলো যে কেউ ইচ্ছে করে ঢিল মেরে ভেঙ্গে দিয়েছে।

যাই হোক , মেয়েটি বাতরুম থেকে বের হইয়ে চিৎকার করে উঠলো। দৌঁড়ে গিয়ে আসাদের স্ত্রী দেখলো মেয়েটির প্রসব ব্যাথা উঠেছে। বিপদের কথা মনে করে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বিরক্তি হলো। কিন্তু একজন অন্তস্বত্বা মেয়েকে এই অবস্থা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াও ঠিক হবেনা।

মমস্বল এলাকায় সন্ধ্যার পর সবাই খেয়ে ঘুমিয়ে পরে। অনেক কস্ট করে আসাদ একঘন্টা পর ডাক্তার নিয়ে বাসায় এলো। এসে দেখে মেয়েটির ডেলিভারী নরমাল হয়েছে। ডাক্তার মেয়েটির বিপি চেকআপ করে দেখলো স্বাভাবিক আছে। মেয়েটি একটা কন্যা সন্তানের জন্ম নিলো। মা-মেয়ে দুজনই সুস্থ্য আছে। ডাক্তারকে বিদায় জানিয়ে ঘরে ডোকতেই হঠাৎ কারেন্ট চলে গিয়ে চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেলো। এর মধ্যে নব্যশিশুটির চিৎকার শোনে আসাদের স্ত্রী দৌঁড়ে এসে দেখে বিদেশী মেয়েটি রুমে নেই। বাড়ির সবগুলো রুমসহ আশপাশ খোঁজে মেয়েটিকে আর পাওয়া গেলোনা। সকালবেলা আসাদ এলাকার সব জায়গায় খোঁজ করেছে, সবাইকে জিজ্ঞেস করেও বিদেশী মেয়েটিকে পাওয়া গেলোনা। অজানা বিপদের কথা চিন্তা করে আসাদ পুলিশের কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলে একটা জিডি করে বাসায় আসলো।

আসাদ বিদেশী মেয়ের বাচ্চাটিকে কোন এতিম খানায় দিয়ে আশার সিন্ধান্ত নিলো। কিন্তু তার স্ত্রী কিছুতেই রাজি হচ্ছেনা। অবশেষে মেয়েটিকে সে নিজের সন্তানদের মতো লালন পালন করতে লাগলো। তার নাম রাখা হলো নীশি। একদিন নীশি এবং আসাদের বড় ছেলে পরশ নিজের রুমে বিছানায় শোয়ে ঘুমাচ্ছে। তার স্ত্রী পাশেই রান্নার ঘরে রান্না করছে। কি মনে করে আসাদের স্ত্রী পরশের রুমে উকি মারতেই দেখলো পরশ নিচে পরে আছে। সারাটা শরীর রক্তে লাল হয়ে আছে। দেখেই তিনি চিৎকার দিয়ে উঠলো। তার চিৎকার শোনে আসাদ দৌঁড়ে আসলো। তাড়াতাড়ি ছেলেকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। ডাক্তার পরশকে দেখে…

 

লেখক
সাংবাদিক এমডি বাবুল ভূঁইয়া