রাত ৯:৫৬, সোমবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং

রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিশ্বজুড়ে

আইএনবি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

জানুয়ারি ১১, ২০১৮

আইএনবি ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণকবরের কথা এই প্রথম স্বীকার করল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাপ্রধানের কার্যালয় আরও স্বীকার করেছে, গণকবরে পাওয়া ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে সেনাসদস্যরাই। তবে নিহতদের ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছে তারা। বুধবার ফেসবুকের একটি পোস্টে এ স্বীকারোক্তি করা হয়েছে। খবর এএফপির।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংয়ের ফেসবুক পেজে বলা হয়, রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ইন দিন গ্রামে সন্ধান পাওয়া গণকবরে ১০ জনের লাশ ছিল। গ্রামের কিছু বাসিন্দা ও সেনাসদস্যদের হাতে তারা প্রাণ হারিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর ওই গণকবর আবিস্কৃত হয়। তখন সেনাবাহিনী জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় লোকজনের একটি গণকবর আবিস্কৃৃত হয়েছে। লোকজনকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে- এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় তদন্ত চালিয়ে গণকবরের সন্ধান পায়।
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নির্বিচারে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত কয়েক মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শত শত নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে তাদের উৎখাত করার অস্ত্র হিসেবে। জাতিসংঘ সেনা অভিযানকে আখ্যা দিয়েছে জাতিগত নিধন বলে। তবে সেনাবাহিনীর গণহত্যা বা জাতিগত নিধন অভিযানের কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকার।

রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন :রাখাইনে রোহিঙ্গাদের খবর তুলে ধরা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়া সু ও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে মিয়ানমারের পুলিশ। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ভঙ্গের দায়ে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। তাদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও অভিযোগটি দায়ের করা হলো।
ইয়াঙ্গুন আদালতের বিচারক বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একজন পুলিশ কর্মকর্তা স্টেট সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩.১ (সি) ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দুই সাংবাদিকের জামিনের আবেদনের শুনানির তারিখ আগামী ২৩ জানুয়ারি ধার্য করেছেন ওই আদালত। গত ১২ ডিসেম্বর তাদের আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

শেয়ার করুন: