সকাল ১০:২০, মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

মানবাধিকার ও বিশ্ব পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গন

আইএনবি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭

মানবাধিকারের সুতিকাগার হলো সিন্ধু সভ্যতা। যখন সংস্কৃত দার্শনিকগন মানবাধিকারের রুপরেখা নির্নয় করতে গিয়ে পাঁচটি বিষয়কে যথা – অন্ন, বস্ত্ৰ, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে প্রনিধান যোগ্য করে তোলেন তখন তারা স্বপেও ভাবেননি যে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এক সময় মৌলিক অধিকারের অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়াবে। কারন তখনকার বিশ্বের মানুষ ছিল সহজ – সরল। মানুষ হয়ে ব্যাপকহারে নরহত্যা চালাবে মানুষ এ বিষয় ছিল তাদের কল্পনাতীত। তাই আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা এবং সম্ভম এর সুরক্ষা মানব অধিকারের অন্যতম দুটি নিয়ামক। কারন অন্ন গ্রহনের সাথে সাথেই জৈবিক বা পাশবিক প্রয়োজন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। যেটা আমি মানিক বন্দোপাধ্যায়ের “প্রাগৌতিহাসিক” নামক ছোট গল্পটি শতবার অধ্যায়ন এবং গবেষনা করে উপলব্দি করেছি। মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষা ও চর্চা আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার রক্ষার অপরিহার্য উপকরন। তাই বৃটিশ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক GH. Wales বলেছেন, “With Progress of Education, History of Civilization is turning to be a disaster” আমি তার সঙ্গে একমত। এ কারনে যে – শিক্ষার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে”।

বিশ্ব আজ উত্তপ্ত। বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্যে মিয়ানমার, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, আফগানিস্থান সহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মানুষের নেই কোন জীবনের নিরাপত্তা । সাম্প্রতিক মিয়ানমারে রাখাইনদের নির্মম, নিষ্ঠুর ও হৃদয় বিদারক হত্যাযজ্ঞ যা দুনিয়ার মানুষকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। মানব হয়ে মানব হত্যা পৃথিবীর কোন বিধানে কিংবা ধর্মেও নেই।রাখাইন সম্প্রদায় মায়ের গর্ভে জন্ম গ্ৰহন করেছে এবং পালন করছে একটি বিশেষ ধর্ম। অন্যথায় রোহিঙ্গা মুসলিম যারাও মায়ের গর্ভে জন্মেছে এবং একটি ধর্ম পালন করছে। তাহলে মানব হয়ে মানব হত্যা কেন ? মানব হয়ে ওরা কেন দানবের কাজ করছে ?

মানুষ সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের ডেকে বললেন, “অচিরেই আমি আমার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পৃথিবীতে মানব জাতি প্রেরণ করিব।” ফেশেতারা বললেন, “হে আল্লাহ! আপনার ইবাদত করার জন্য আমরাই যথেষ্ট। আপনি পৃথিবীতে মানুষ পাঠালে তারা রক্তপাত ঘটাবে এবং খারাপ কাজে লিপ্ত হবে (সুরা বাকারাহ আয়াত নং ৩০)।” অতপর : আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে বললেন, ” আমি যাহা জানি তোমরা তাহা জাননা” (সুরা বাকারাহ, আয়াত নং ৩১)। তাহলে প্রশ্ন এসে যায় যে, ফেরেশতাদের বাধা উপেক্ষা করেও আল্লাহ পাক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞান দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ মাকলুকাত হিসাবে মানুষ পাঠিয়েছেন। পৃথিবীর সকল কিছু আল্লাহ মানুষের উপকারার্থে দিয়েছেন। মানুষ যখন আল্লাহকে উপেক্ষা করে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ন মনে করে তখনই তারা পথভ্রষ্ট হয়।

আমরা জানি নব্বই এর দশকে যখন আল-কায়দা, তালেবান সংগঠিত হয়, তখন তারা সত্যান্বেষী জ্ঞান পিপাসু এবং মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু পাঁচ বছর যেতে না যেতেই তারা গভীর জ্ঞানের পরিবর্তে অগভীর জ্ঞানের সমুদ্রে নিপেতিত হয়। তাদের মধ্যে এ চেতনা জাগ্রত হল যে, যে করেই হোক মানুষকে ইসলামের পথে বাধ্য করতে হবে। তারা সাধারন জনগনকে বুঝালো হয়ত ইসলামের পথে এস নতুবা মৃত্যু বরন কর। কিন্তু তারা জানলো না, ” লা ইক্করা হা ফিদ্দিন” অর্থাৎ ধর্মের ব্যাপারে জবরদস্তি নেই ( সুরা বাকারাহ আয়াত নং – ২৫৬) । সুতরাং এ ভ্রান্ত চেতনা তাদেরকে ধবংসের পথে নিয়ে গেল।

আমরা বর্তমান তথ্য প্রবাহের যুগে বসবাস করছি। এ তথ্য প্রবাহ একদিকে আমাদেরকে ধীরে ধীরে ধবংসের দিকে ধাপিত করছে। অন্য দিকে আবার এ তথ্য প্রবাহই উজ্জিবিত আলোকিত মানুষ হিসাবে আমাদের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান যুব সমাজ এ দু’প্রকার তথ্য প্রবাহের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কোন মানুষেই তার মায়ের গর্ভ হতে সন্ত্রাসবাদ, উগ্ৰবাদ কিংবা জঙ্গীবাদী হয়ে জন্ম নেয় না। এ পৃথিবীর পরিবেশে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নোংরা পরিবেশে মিশে এক শ্রেণীর মানুষের সান্নিধ্যে এসে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা কিংবা অর্থের মোহে পড়ে ক্ৰমে ক্ৰমে উগ্ৰবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পরে।

এর উত্তোরনের আজও কোন উপায় আছে কি ? অবশ্যই আছে । সর্বপরি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি, সংলাপ ও সংহতি মানবাধিকারের অন্যতম প্রয়োজনীয় নিয়ামক। আন্তর্জাতিক, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও ইসলামি থিমট্যাংকের মাধ্যমে এ দিকহারা, দিশেহারা, হতাশাগ্ৰস্থদের সহযোগীতা করতে পারলে মানবাধিকার বজায় রেখে এরা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারে বলে আমি মনে করি।

 

লেখক:- এরশাদুল হক দুলাল

পরিচালক, ডেভলপমেন্ট কো অর্ডিনেশন সোসাইটি (ডিসিএস)

 

 

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

শেয়ার করুন: