মাগুরায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

3

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা সদর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামে সামাজিক দলাদলি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে জাকির হোসেন লিটন (৪৮) নামে এক কৃষককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। জাকিরকে বাঁচাতে এলে মিকার হন নিহতের স্ত্রীসহ পাঁচজন। সোমবার রাতে নন্দলালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জাকির ওই গ্রামের গ্রামের মুনসুর মুন্সির ছেলে।

নিহতের স্ত্রী হেলেনা বেগম জানান, নন্দলালপুর গ্রামের গ্রাম্য মাতবর শরিফুল ইসলাম শরির সাথে এলাকায় সামাজিক দল করত তার স্বামী জাকির হোসেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সন্ধ্যায় নন্দলালপুর গ্রামে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শরিফুলের দল ত্যাগ করে শরিফুলের প্রতিপক্ষ অপর গ্রাম্য মাতবর পিকুল হোসেনের দলে যোগ দেয় জাকির ও তার লোকজন। এতে শরিফুল ক্ষুব্ধ হয়ে জাকির হোসেনকে হত্যাসহ নানা হুমকি দিয়ে আসছিল শরিফুল। এরই এক পর্যায়ে সোমবার সকালে জাকির হোসেন নিজের মসুর ক্ষেতে সেচ দিতে যায়। এসময় শরিফুল সেখানে এসে সামান্য বিষয় নিয়ে জাকিরের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে শরিফুল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ উত্তেজনার এক পর্যায়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরিফুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে নন্দলালপুর বাজারে তুষারের চায়ের দোকানে জাকির হোসেন লিটনের উপর হামলা করে। এসময় জাকির হোসেন দৌড়ে তার নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানে স্ত্রী হেলেনা খাতুরে সামনে শরিফুল ও তার লোকজন জাকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। জাকিরকে বাঁচাতে তার স্ত্রী হেলেনা বেগমসহ অন্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারী তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় জাকির হোসেনসহ মোট ছয়জন আহত হয়। তাদের স্থানীরা উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকির হোসেন মারা যান। আহতরা হলেন- জয় (১৭), ইমরুল (৪০), মিলন (৩২), সাকিব (১৪), হেলেনা (২৭)। তাদের মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, স্থানীয় হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাজরাপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কবির হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের বিরোধ চলছে। এ বিরোধের কারণে হাজরাপুর ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরস্পর বিরোধী সামাজিক দলে বিভক্ত হয়ে আছে। নন্দলালপুরে নিহত জাকির হোসেন চেয়ারম্যান কবির হোসেনের সামাজিক দলনেতা পিকুল শেখের সমর্থক। অন্যদিকে শরিফুল ইসলাস সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের সমর্থক। ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরোধের জের ও সামাজিক দলাদলিতে একই ইউনিয়নের সাচানি গ্রামে গত ১ নভেম্বর মাসুদ মোল্যা (৩০) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী খুন হয় প্রতিপক্ষের হামলায়।

মাগুরার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, সদর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামে ফসলের জমিতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাকির হোসেন নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। উত্তেজনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ঢাকাটাইমস

আইএনবি/বিভূঁইয়া