রাত ৯:৫৪, সোমবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং

ভ্রাম্যমাণ আদালতকে আমার নিজেরই ভয় লাগে আইন ও আদালত

আইএনবি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

জানুয়ারি ৩, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক:নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা দেওয়া প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, সাধারণ মানুষের কথা কী বলব, আমার নিজেরই ভয় লাগে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের বুধবার সকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানিকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ থাকতে পারবে না, জেল-জরিমানা দিয়ে দেবেন। সাধারণ মানুষের কথা কী বলব, আমার নিজেরই ভয় লাগে। বিনা কারণে কোনো নাগরিক একদিন জেলে রাখাও সংবিধান সমর্থন করে না।

শুনানির এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার এম. আমির-উল ইসলামের কাছে আদালত জানতে চান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কাউকে সাজা দেন, তাহলে সেই অর্ডারটা এক্সিকিউটিভ অর্ডার না জুডিশিয়াল অর্ডার হবে?

পরে আদালত আধা ঘণ্টার জন্য বিরতিতে যান।

চলতি বছরের ১১ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণাও করা হয়। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের কয়েক দফা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ। ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। সেই লিভ টু আপিলের শুনানি আজ শুরু হয়েছে।

ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর কামারুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভুত ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়।

তাছাড়া ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টয়নবি সার্কুলার রোডে অবস্থিত এক বাড়ির মালিক মো. মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইনের বিধান ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট করেন মজিবুর। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন হাইকোর্ট রুলসহ সাজার আদেশ স্থগিত করেন।

সেই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন আরেকটি রিট করেন।

এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বতীকালীন আদেশ দেন।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী হাসান এম এস আজিম বলেন, রুলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ৫,৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। ৩ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া রুল একসঙ্গে শুনানি হয়।

আইনজীবী আজিম বলেন, রিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিচার করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই ধারাগুলো সংবিধান, মাসদার হোসেন মামলার রায় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে ওই আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে। এছাড়া ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া ক্ষমতা, ১৩ ধারায় আপিল ও ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারকে দেওয়া ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।
-আলোকিত বাংলাদেশ

আইএনবি:বিভূঁইয়া

এ বিভাগের আরো সংবাদ

শেয়ার করুন: