দু”ফোটা চোখের জল (১ম পর্ব)

7
আইএনবি নিউজ:
মানুষের জীবনে নাকি দুঃখের পর সুখ আসে। কিন্তু আমার জীবনে সুখ নামক পাখিটির দেখা কোনদিন পাইনি। শৈশবে মায়ের বকুনি আর বাবার ভালোবাসা নিয়েই আমার বেড়ে উঠা। আমরা তিন ভাই-বোন ছিলাম। আমি সবার বড় এবং আমার ছোট দুই ভাই। আমাদের পরিবারের মধ্যে আমিই একমাত্র মেয়ে। তাই সবার কাছে খুব আদরের ছিলাম। বিশেষ করে বাবা এবং দাদী আমাকে বেশি ভালোবাসতো। যখন আমার বয়স ১২ বছর তখন আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা উঠে পরে লাগলো। আমি কেবল ৬ষ্ট শ্রেণিতে পড়ি। কিন্তু আমি এবং মা রাজি ছিলামনা। তবে মা রাজি না হওয়ার পিছনে একটা স্বার্থ ছিল। মায়ের ইচ্ছা ছিলো তার বোনের ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিবে। তাতে বাবা মোটেও রাজি ছিলনা। বাবার কথা হলো আত্মীয়স্বজনের সাথে নতুন সম্পর্ক না করে অন্য কোথায় হলে আত্মীয়তা বাড়বে। কিন্তু মা, বাবার বিয়ের পীড়া-পীড়িতে আমার লেখা পড়ার বারোটা বেজে যাচ্ছে।
একদিন আমার মেঝো চাচা মাকে বললো, ভাবী তোমার কাছে বড় ভাই যে টাকা গুলো রেখেছে সেগুলো দাও। বলে রাখছি, আমার বাবা সরকারি চাকুরী করতেন। কিন্তু আমরা গ্রামের বাড়িতেই থাকি। আমার বাবা তাদের চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। আর সংসারের প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা মার কাছেই থাকতো। দরকার হলে সবাই মায়ের কাছ থেকেই চেয়ে নিতো। কিন্তু মেঝো চাচা মায়ের কাছে যে টাকাটা চেয়েছিল, সেটা মা-বাবা ছাড়া কারোর জানার কথা ছিলনা। কারণ বাবা টাকাটা মায়ের কাছে রাখার সময় বলেছিল এই টাকাটার বিষয়ে কেউ যেন না জানে। হঠাৎ মেঝো চাচা টাকাটার কথা বলায় মা ভাবলো বাবাই হয়তো চাচাকে বলেছে। তা না হলে চাচা এভাবে বলতে পারতো না। যাই হোক, মা সরল মনে মেঝো চাচাকে টাকাটা দিয়ে দিল।
সেদিন বিকাল বেলায় মেঝো চাচা আমাকে বললো, শিউলী তোকে নিয়ে এক জায়গায় ঘুড়তে যাব তুই রেডি হয়ে থাকিছ। আমি চাচাকে বললাম ঠিক আছে। কথামতো চাচা আমাকে নিয়ে লঞ্চ ঘাটে গেল। সেখানে একটা নৌকা ভাড়া করলো কিন্তু নৌকায় আর কোন যাত্রী ছিলনা। শুধু আমি আর চাচাই ছিলাম। এতবড় নৌকায় আর কোন যাত্রী না থাকায় আমার ভয় লাগছিলো। আমরা কোথায় যাচ্ছি চাচার কাছে জানতে চাইলে বললো, এইতো সামনেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে। তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি নৌকায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলাম। এরই মধ্যে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি বলতে পারবোনা। হঠাৎ জেগে দেখি চারিদিকে অন্ধকার। চাচাকে বললাম, আমি বাড়িতে চলে যাব আত্মীয়ের বাড়িতে যাবোনা। তিনি আমাকে বললেন, রাত হয়ে গেছে এখন বাড়ির দিকে গেলে চোর ডাকাতের কবলে পরতে হবে। রাতটা আমাদের নৌকায় থাকতে হবে। ভোর হলেই বাড়িতে চলে যাব। এই কথা শোনে আমি মনে মনে খুব ভয় পাচ্ছি। চাচাকে বুঝতে না দিয়ে বললাম, বাড়িতে মা খুব চিন্তা করবে আমরা এখনই বাড়িতে চলে যাই। আমার কথার কোন উত্তর না দিয়ে নৌকাটা একটু চর দেখে নোঙ্গর করলো। মেঝো চাচার উপর আমার সন্দেহ হলো। মনে মনে ভাবছি উনি হয়তো আমাকে মেরে ফেলার জন্যই নিয়ে আসছে। এইসব ভাবতে ভাবতে আবার ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি…..
—–লেখক
সাংবাদিক এমডি বাবুল ভূঁইয়া