তৈমূর-আইভীর প্রচারণায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

4

আইএনবি ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আর মাত্র সাত দিন বাকি। প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মনোযোগ কাড়তে তাঁদের চেষ্টার কমতি নেই। এর মধ্যেই মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পরস্পরকে বাক্যবাণে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন। একে অন্যের বিরুদ্ধে করছেন নানা অভিযোগ। গতকাল শনিবার গণসংযোগকালে আইভী বলেছেন, ‘তৈমূর হচ্ছেন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের প্রার্থী।’ আর তৈমূর বলেছেন, ‘তাঁকে (আইভী) নাকি কেউ সাপোর্ট দেয় না, আমি কী করব?’

সকালে সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেউলি চৌরাপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ‘উনি (তৈমূর) শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের প্রার্থী। উনি বিএনপির প্রার্থী নন, উনি স্বতন্ত্র প্রার্থীও নন। উনি গতকাল (শুক্রবার) বন্দরে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেলিম ওসমানের জাতীয় পার্টির চারজন চেয়ারম্যান তাঁর সঙ্গে ছিল। এতে প্রমাণিত হয়, সারা নারায়ণগঞ্জে যে গুঞ্জন ছিল, তৈমূর আলম খন্দকার শামীম ওসমানের ক্যান্ডিডেট, তা প্রমাণিত হয়েছে।’

দলের সমর্থন প্রসঙ্গে আইভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হলো কি না জানি না। সব নেতাকর্মী আমার সঙ্গে। প্রতিটি ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা আমার পাশে আছে। একমাত্র সে বাইরে গিয়ে তার লোকজনকে তৈমূর সাহেবের সঙ্গে দিচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি বলতে চাই, আমি নির্বাচন করি জনতার শক্তিতে। জনতাই আমার শক্তি, দল আমার মনোবল। এসব মিলিয়ে আমি নির্বাচন করি। আমি বলেছি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানরা প্রকাশ্যে নেমেছে। এতে প্রমাণিত হয় কারা তাঁর সঙ্গে আছে, কারা তাঁকে সাপোর্ট দিচ্ছে।’

দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, ‘যখন শামীম ওসমান তোলারাম কলেজের ভিপি( ছাত্রনেতা), তখন আমি নারায়ণগঞ্জে একজন ডাকসাইটে শ্রমিক নেতা। আমি শামীমের পায়ে হাঁটি না। আমি নিজস্ব জনশক্তিতে হাঁটি।’ তিনি বলেন, ‘তাঁকে (আইভী) নাকি কেউ সাপোর্ট দেয় না। এখানে আমি কী করব? তাঁদের এমপি, দলের নেতাকর্মীরা যদি তাঁকে সাপোর্ট না দেয় আমার করার কিছু নেই।’

তৈমূর আলম বলেন, ‘আমি জনগণের প্রার্থী। জনগণের চাহিদার কারণেই আমাকে প্রার্থী হতে হয়েছে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন ১৮ বছর ধরে এক ব্যক্তির হাতে। এতে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট শক্ত হয়েছে, কিন্তু নগরবাসীর সেবা বৃদ্ধি পায়নি। ফলে নগরবাসী এখন ঐক্যবদ্ধ।’

নারায়ণগঞ্জে আ. লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এই নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা এসে নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এমনকি নাম উচ্চারণ না করে বলেছেন, ‘যাঁরা মেয়র প্রার্থী আইভীকে সমর্থন দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার বন্দরে তাঁরা জনসভা করেন। গতকালও একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।’

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, ‘যাঁর কথা বলা হচ্ছে, তিনি একটা দলের আদর্শ, নীতি, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ইত্যাদি লালন করেই কিন্তু এত বড় নেতা হয়েছেন। উনি যদি আজ সেগুলো প্রতিপালন না করেন এবং উনি যদি এই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, আমাদের কাছে যেসব খবর আসছে, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যখন বিষয়টি নিশ্চিত হব যে উনি আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্প কোনো কিছু থাকবে না।’

ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র সাত দিন আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। কারণ হিসেবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি শামীম ওসমানের অনুগত।

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘আমরা আজ (গতকাল) নৌকার পক্ষে শহরের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে সভা করছিলাম, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সভা চলাকালেই আমরা অনলাইনে জানতে পারি, আমাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আমরা শামীম ওসমানকে আইডল ভেবেই রাজনীতিটা করি। কারণ শামীম ওসমান ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। আমাদের কমিটি ভেঙে দেওয়ার কারণে আমরা এখন ভারমুক্ত হলাম।’

কালেরকন্ঠ

আইএনবি/বিভূঁইয়া