ট্রাম্পের ভাগ্য সুতায় ঝুলছে

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী বলে ক্ষমতাচ্যুত করতে নারাজ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় সমর্থকদের উসকে দেওয়ার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তাই বলে তাঁকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া থেমে নেই।

এদিকে নিজ দলের ভেতর ট্রাম্পের রাশ আলগা হতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে চালানো সহিংস হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার বিষয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক দলের সদস্যরা। গতকাল বুধবার এই ভোটাভুটি হওয়ার কথা।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে চিঠি দিয়ে পেন্স জানিয়ে দেন, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ২৫তম সংশোধনী তিনি কার্যকর করবেন না। এটি ভয়ংকর নজির তৈরি করবে বলে মন্তব্য করে পেন্স বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ আমাদের জাতির স্বার্থে সবচেয়ে ভালো হবে বলে আমি মনে করি না।’ পেলোসি ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পেন্সকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে ক্যাপিটল ভবনে হামলায় সমর্থকদের ‘উসকানি’ দেওয়ার ঘটনায় নিজের কোনো ‘দায়’ দেখছেন না ট্রাম্প। উল্টো তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওই হামলার জেরে তাঁকে অভিশংসন করা হলে আরো সহিংসতা হতে পারে।

ক্যাপিটলের ঘটনার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দেয়াল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। ট্রাম্পের দাবি, ক্যাপিটলে জড়ো হতে সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর দেওয়া বক্তব্য ঠিক ছিল। লোকজন তাঁর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এমনটাই নাকি জানিয়েছে। যদিও ট্রাম্পের নিজ দলের নেতারাই ওই বক্তব্যকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা লিজ চেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘আগুন জ্বালিয়েছেন’। লিজ চেনি দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান ডিক চেনির মেয়ে। ট্রাম্প এই অভিশংসনের উদ্যোগকে ধাপ্পাবাজি অভিহিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘উইচ-হান্ট’ এই অভিশংসন। নিজেকে শান্তিপ্রিয় মানুষ দাবি করে তিনি বলেন, অভিশংসনের উদ্যোগ ব্যাপক ক্ষোভ ও বিভক্তির জন্ম দিচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনএন।

আইএনবি / বিভূঁইয়া