জনগনের সেবার মাধ্যমেই নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই,এস আই বিলাল (ভিডিও)

56

এমডি বাবুল ভূঁইয়া: জনগনের সেবার মাধ্যমেই নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই, বললেন যাত্রাবড়ীর থানার দুরদর্শি (অফিসার) এস আই বিলাল আল-আজাদ।

আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে আইএনবি নিউজ ২৪ ডট কমকে তিনি এ কথা জানান।

এসআই বিলাল আল-আজাদ ১৯৮৯ সালে নেত্রকোনা জেলার শ্রীধরপুর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা মোঃ আরজ আলী এবং মাতা-খালেদা আক্তার খুবই ধর্মপরায়ণ মানুষ।

তিনি ছোট বেলা থেকেই মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে গিয়ে কাজ করে খুবই তুপ্তি পেতেন। বর্তমানে তিনি দেশের প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ পেয়ে খুবই আনন্দিত। কারন এই দায়িত্বের মাঝে থেকে তিনি অতি সহজেই মানব সেবার কাজটি করে যেতে পারছেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

তিনি ২০১৪ সালে পুলিশে যোগদান করেন। আমাদের প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সারদা থেকে পুলিশ ট্রেনিং হওয়ার পর এক বছর শিক্ষানুবেশ করতে হয় সাব ইন্সপেক্টর এর জন্য। এই শিক্ষানুবেশ সময়টা আমি পার করি তেজগাঁও শাখায়। এর পর আমি ৬ মাস এসবিআই’তে ছিলাম। বর্তমানে যাত্রাবড়ী থানায় এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

যাত্রাবাড়ীর কাজলাস্থ আলী আমজাদ নামে মিষ্টি দোকানের এক কর্মচারী খুনের ঘটনা জানতে চাইলে বলেন, ঢাকা-ডেমরা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে এক মিষ্টির দোকানের কর্মচারি ডিপজল একই দোকানের আরেক কর্মচারী আলী আমজাদকে কুপিয়ে হত্যা করে দোকানের নগদ প্রায় ৯,৭০০/- টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় গত ২ জুলাই।

তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অক্লান্ত পরিশ্রমসহ ঘুম নিদ্রাকে হারাম করে দুই দিনেই (গত ৫ জুলাই শুক্রবার) পলাতক খুনি ডিপজলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।


প্রতিবেদকের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাধে হয়তো দায়ত্বিটা ছিল কিন্তু আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মামলা ডিটেক্ট করার জন্য, আসামি ধরার জন্য র্সবোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং আমরা একটা ভালো রেজাল্ট অল্প সময়ের মধ্যে পেয়েছি।

এসআই বিলাল আল আজাদ বলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব শাহ ইফতেখার আহমেদ স্যারের তত্তাবধানে এসি ডেমরা জোন জনাব রবিউল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মাজহারুল ইসলাম কাজল স্যারের সহায়তায় আমি ও এস আই জনি সহ অভিযান পরিচালনা করি এবং হত্যা মামলার আসামি ডিপজলকে গ্রেফতার করি।

প্রবাস থেকে আসা জৈনিক রুবেল নামে এক ব্যাক্তি নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তিতে তার লাশ রামপুরা থেকে খোঁজে বের করার প্রশ্নে এসআই বিলাল বলেন, এই কাজটা করতেও অনেক কষ্ট হয়েছে। প্রথমে এই বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করা হয়। এবং এই জিডির তদন্তকারী অফিসার আমি মনোনীত হই। তখন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে টেকনোলজির মাধ্যেমে প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেখি জিডির লোকটির সিমকার্ড রামপুরায় গিয়ে বন্ধ হয়। আমি তাৎক্ষনিকভাবে রামপুরায় যাই এবং সাত দিনের মত আমার সময় লাগে সঠিক লোকেশনে পৌঁছতে। তারপর একটি অপহরণ মামলা রুজ হয়। কারন আমরা তখন জানিনা রুবেল মারা গেছে বা সে কি অবস্থায় আছে। সেই মামলায় কোর্টেও তদন্তকারী অফিসার আমি হই। রুবেলের লাশ পর্যন্ত পৌঁছাতে আমার সময় লেগেছে ৭ থেকে ১০ দিন। সে হত্যা হয় রামপুরায়, তাকে পিকাপ ভ্যানে করে ২৫৩ কিলোমিটার দুরে নিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। লাশটিকে ট্রাংকে করে নিয়ে যায় কেউ যেন বুঝতে না পারে। আমি মাটির নিচ থেকে লাশটিকে তোলার যা যা করার আমাকে সার্বিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন আমাদের ডিসি মহোদয়।

বিলাল আল-আজাদ বলেন, আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয় তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষে পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে আমি হাল ছাড়িনি। আসামীও গ্রেফতার করেছি এবং প্রত্যেক আসমী আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, আমি সত্যের পক্ষে থাকি এবং সত্যের জন্য লড়াই করি। আমি মরে যাব সেই ভয় করিনা। আল্লাহ্’র ইচ্ছায়  যেকোন সময় আমি মরে যেতে পারি। তবে পারিপার্শ্বিক চাপ বা ভয় সেটা আমি বিশ্বাস করিনা।

গত ২০১৯ জুলাই মাসে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের শ্রেষ্ঠ অপরাধ বিভাগে যাত্রাবাড়ী থানার চৌকস এবং দুরদর্শি এস.আই মোঃ বিল্লাল আল আজাদ বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা কাজের পুরস্কার কাজের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এটা হল তৃপ্তির ব্যপার। তবে এর চেয়ে বড় পুরস্কার হল যেটা আমি মনে করি ভিকটিম যে শান্তনা, তাদের চোখে মুখে যে একটা দোয়া এটাই আমার কাছে বড় পুরস্কার বলে আমি মনে করি।

সর্বশেষে এসআই বিলাল আল-আজাদ এর স্বপ্ন হল মানুষের সেবা করা।

আইএনবি/বিভূঁইয়া