কার কাছে যাবো?

12

তারিক মাহমুদ:
দুপুরের এই সময়টায় ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট ফাঁকা ফাঁকা। যান জটও কম।লোকজনের কোলাহলও নেই। কিন্ত বাতাসে আছে উওতাপ।

শীতকালটা বোধহয় চলে গেছে।তাই গরম বাতাসের আভাস পাচ্ছি চারিপাশে।আমার এই রকম পরিবেশ ভালো লাগে না।গরমও সহ্য হয় না।মানুষের কোলাহলও না।আমি থাকি নিরবে,নিভৃতে।

তবুও আজ এই গরম বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছি।জরুরি কাজে সকালে বিমানবন্দরে এসেছি।সিভিল এভিয়েশন ভবনে কাজ।খুব প্যারায় আছি।কাজটার লাইন গাট ঠিক মতো হচ্ছে না।মন মেজাজ খারাপ।সিভিল এভিয়েশন ভবন টা খুব সুন্দর। চারতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে চারিপাশটা দেখছি। মৃদু গরম বাতাসের ছোঁয়া লাগছে চোখে মুখে।

আমি দুরের রানওয়ের দিকে তাকিয়ে আছি।ক্ষনে ক্ষনে বিমান ওঠা নামা করছে।কেউ কেউ প্রিয়জনকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে পরবাসে।আমারও খুব ইচ্ছে করে দুরে কোন শীত প্রধান দেশে চলে যাই।যেখানে সারাদিন বরফ পড়ে।লেপের নীচে শুয়ে শুয়ে জানালা দিয়ে সেই বরফ পড়া দেখবো।সাথে যদি কোন আপন মানুষ থাকে, তাহলে এ জীবন ধন্য হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা হতো সেটা।

তারপর মনে হয়,আমার তো কেউ কোথাও নেই। কে আমাকে সেই শীতের দেশে নিয়ে যাবে?
আমি একা,নিঃসঙ্গ। পুরানো পথের মতো, আকাশের নক্ষত্রের মতো, ফেলে আসা ভাঙা বাড়ির মতোই।
আমার কোন সংসার নেই,ঘর নেই, আপন মানুষ ও নেই।
আছে আমার একমাএ মেয়ে নদী।
সে-ই আমার রাজকন্যা। তাকে নিয়েই আছি।
এই গরম বাতাসে, সিভিল অ্যাভিয়েশন এর ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ও ভাবছি,আমি এখন কোথায় যাবো?
কার কাছে যাবো?