সকাল ১০:২৮, মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

কথিত বিচারকের ঘুষ বাণিজ্য ভোলাহাটে গৃহবধূকে ১০১ দোরা রাজশাহী, সারাবাংলা

আইএনবি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

মার্চ ২৩, ২০১৭

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাটে দরিদ্র গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ১০১ দোররা মেরেছে কথিত বিচারকেরা। গুরুত্বর আহতাবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১১ মার্চ রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে ফারুক (২৩) একই উপজেলার ও ইউনিয়নের বড়ইগাছী ভাটাপাড়া গ্রামের বাহার আলীর স্ত্রী হালিমা বেগমকে (২৩) আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। এ সময় ১নং ওয়ার্ড মেম্বর ইব্রাহীম, ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুস সামাদ, ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বর সিহাব ও ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর জিন্নাত গৃহবধূকে মারধর করে এবং ধর্ষক ফারুকের বাবা-মার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ধর্ষককে ছাড়িয়ে দেন তারা।

পরদিন ১২ মার্চ সকাল ১০টার সময় এ গৃহবধূর বাড়ীর সামনে কথিত আদালত বসিয়ে ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর কথিত প্রধান বিচারপতি ও তার পক্ষে ঘুষ গ্রহণকারীরা ১, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বরেরা গ্রামপুলিশ মোস্তফাকে দিয়ে ২য় দফায় আবার পিটায় গৃহবধূকে। ফলে গৃহবধূ ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তারপরও কথিত বিচারকদের বিচার থেমে থাকেনি। কথিত রায়ে গৃহবধূ হালিমাকে ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুককে মারা হয় ১০১ দোররা। গৃহবধূকে অর্থদন্ড করা হয় ৬ হাজার এবং অভিযুক্ত ধর্ষককে অর্থদন্ড করা হয় ২২ হাজার টাকা।

অভিযোগ উঠেছে ঘুষ, অর্থদন্ডর মোট ৪৮ হাজার টাকার সবগুলোই লুটপাট করেছেন এ কথিত বিচারকেরা। এদিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় গৃহবধূ হালিমা চিকিৎসার জন্য ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় কথিত প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং গৃহবধূকে পতিতা বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে নির্যাতিতা গৃহবধূ হালিমা জানান, তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলাহাট থানায় মামলা করেছেন। ভোলাহাট থসার অফিসার ইনচার্জ মহসীন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে থানায় মামলার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ২২ মার্চ রাতে সিহাব নামের জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। বাঁকী অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

আইএনবি: শরীফ/মিজান/এসকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

শেয়ার করুন: