এরশাদ ট্রাস্ট নিয়ে দ্বন্দ্বে মামুন ও বিদিশা

0

আইএনবি ডেস্ক: ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ ও এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

গতকাল মঙ্গলবার কাজী মামুনুর রশীদের সঙ্গে এরিকের ফোনালাপ প্রকাশ হয়। একই দিনে গুলশান থানায় কাজী মামুনের বিরুদ্ধে জিডি করেন শাহাতা জারাব এরশাদ এরিক। সোয়া ৫ মিনিটের অডিওতে এরিক বিদিশার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিদিশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কাজী মামুনুর রশীদের কাছে অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে জিডিতে এরিক উল্লেখ করেছেন, তিনি কাজী মামুনের হাত থেকে বাঁচতে চান। ফলে এরিকের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এই রহস্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ এরিক বলেন, ‘আসলে এই অডিওটা আমাকে দিয়ে বলানো হয়েছিল।’ অডিওটা কবেকার জানতে চাইলে এরিক বলেন, ‘এটা দুই-তিন মাস আগের। আমাকে আতঙ্কিত করে এক ফোন দিয়ে রেকর্ড করে আরেক ফোন দিয়ে কথা বলছিল।’ এ বিষয়ে আগে কেন অভিযোগ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলিনি, কারণ আমাকে আতঙ্কে রেখেছিল।’

এ বিষয়ে বিদিশা সিদ্দিক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না…। একটা ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে ওরা (কাজী মামুন) যা শুরু করেছে…।’

বিদিশা ও এরিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজী মামুনুর রশীদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এরিককে কাছে রেখে তাকে দিয়ে এসব করানো হচ্ছে। তাকে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দিলেই আসল সত্যটা বেরিয়ে আসবে। আমি চাই সত্য প্রকাশিত হোক।’

ফাঁস হওয়া অডিওতে ‘মা বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন এরিক। একই সঙ্গে নিজেকে অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার করতে কাজী মামুনের কাছে সহায়তা চান। সন্ধ্যার মধ্যে পুলিশের সহযোগিতায় প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা থেকে বিদিশাকে বের করে দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি। এরিক অডিওবার্তায় মা বিদিশাকে ‘মীরজাফর’, খুনি এরশাদ শিকদারের সঙ্গে তুলনা করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বাঁচাটা জরুরি। আজকে তিনি (বিদিশা) যদি এই বাসায় থাকেন, তা হলে আমি এই বাসায় থাকব না।’

অন্যদিকে এরশাদ ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে করা জিডিতে বলা হয়েছে, এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ গং যে কোনো সময় তার প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে হামলা চালাতে পারে- এই আশঙ্কা করে এরিক নিজেই গত সোমবার গুলশান থানায় জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ৫৪০। জিডিতে এরিক বলেন, ‘গত ৬ নভেম্বর কাজী মামুনুর রশীদ ও কাজী রুবায়েত গং আমার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় অতর্কিতভাবে চলে আসে। তারা আমার বাসায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে। তারা আমাদের বাসা দখল নিতে চায়। দখল নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকিও দিয়েছে।’ এরিক জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘তারা আমাদের বাসায় কোনো নাশকতামূলক দ্রব্য রেখে যেতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে।’

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ নন। বর্তমানে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার (অব) তানভীর ইকবাল।

জিডিতে এরিক বলেন, ‘গত ২৭-১০-২০২২ ইংরেজি তারিখে আমার মা বিদিশা এরশাদকে নিয়ে আমি ওমরা হজ্জের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করতে চাইলে উক্ত মামুনুর রশীদ গং বাধা প্রদান করে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এ নিয়ে একটি জিডি করা হয়- যার নম্বর : গুলশান থানা জিডি নম্বর ১৮৮০ এবং তারিখ ২৮-১০-২০২২। বর্তমানে আমি ও আমার মা প্রেসিডেন্ট পার্ক, ১০ দূতাবাস রোড, বারিধারা, ঢাকায় (থেকে) মামুনুর রশীদ গংয়ের কাছ থেকে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। উক্ত ব্যক্তিবর্গ যে কোনো সময়ে আমাদের বাসাতে অতর্কিতে চলে আসে এবং হয়রানি করে। ৬-১১-২০২২ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকায় কাজী মো. মামুনুর রশীদ ও কাজী রুবায়েত হাসান গং অতর্কিতে আমার বাসায় চলে আসে এবং এক ঘণ্টার অধিককাল অবস্থান করে। তারা আমাদের এই বাসস্থান হতে উৎখাত করে দখল নিতে চায় এবং এই মর্মে হুমকি প্রদান করে।’

গুলশান থানার ওসি ফরমান আলী বলেন, ‘ওনারা মাঝে মধ্যে এভাবে জিডি করে থাকেন। আমরা সবগুলো তদন্ত করে দেখি।’

সূত্র: আমাদের সময়

আইএনবি/বিভূঁইয়া