আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না: পার্থ

আইএনবি ডেস্ক::ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া চলবে না উল্লেখ করে , আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই রেভোলিউশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। সংবিধান কেন ছিঁড়ে ফেলে দেব? আমি পরিবর্তন করতে পারি, কিন্তু এটাকে ছুঁড়ে ফেলার দরকার কী? আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়ে যাইয়েন না।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিধি-৬২তে আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে পার্থ বলেন, ‘ব্যাপার তো অনেক কমপ্লেক্স, একটা ইউনিক সিচুয়েশন। আমি আমার সম্মানিত বিরোধী দলের নেতাদের চোখে আবেগ দেখি, কথায়ও দেখি; তবে কেন জানি প্রথম থেকেই আমাদেরকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারাও দেখতে পাচ্ছি। কেউ কথা বললেই তাকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাকে আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, বলতো যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত– বলতো যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকটা ওই অ্যাটিটিউড দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা- উই হ্যাভ নো প্রবলেম উইথ জুলাই। আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন?’

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে পার্থ বলেন, ‘আপনারা সেই সময় রেভুলেশনারি গভর্নমেন্ট কেন করেননি? কেন নরমাল গভর্নমেন্টে গেলেন? ট্রানজিশনাল রেভুলেশনারি গভর্নমেন্ট করতেন, কনস্টিটিউশন ছিঁড়ে ফেলে দিতেন। পুরোনো কনস্টিটিউশনে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে যাচ্ছেন, এটা আসলে হয় না।’

জুলাই আন্দোলনে সবার অংশীদারত্বের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যারা বসা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত বছর জেল খেটেছেন? মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী কয়বার জেল খেটেছেন? আমির সাহেব, সালাউদ্দিন সাহেব বা আমি– আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।’

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখনই ফ্লোর আপনাদের হাতে চলে যায় আপনারা আমাদেরকে অ্যাটাক করেন। যেন জুলাইতে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নেই।’

গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, ‘আপনারা গণভোটে চারটা কথা বলেছেন। একটা ভোটারের কাছে যদি আমি জিজ্ঞেস করি আমি একটাতে ভোট দিতে চাই না আমি কী করব? না-তে ভোট দিব? সেই জবাব নেই। আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই আদেশে মাত্র চারটা বিষয়ে গণভোট করেছেন, বাকি প্রোভিশনগুলো কোথায়? তার মানে আপনারা সবই জানতেন।’

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে পার্থ বলেন, ‘আবু সাঈদ যখন শহীদ হয়েছে, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছে। কন্ট্রিবিউশন কারো কম না। আপনারা সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে লাস্টে এসে বলছেন শরীয়াহ আইন চাই না। আপনারা তো ভোটের জন্য এসব করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ স্ট্যান্ড করে, আমি আন্দালিব রহমান পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। তবে সিস্টেম ডিক্টেট করবেন না।’

আইএনবি/বিভূঁইয়া