সকাল ১০:১৪, মঙ্গলবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে মিয়ানমারের ওপর জাতীয়, বিশ্বজুড়ে

আইএনবি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

আইএনবি প্রতিবেদক:রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশেও আজ বেলা ১১.৩০মিনিট রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে চরমোনাই ভক্তসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনগুলো তীব্র ন্দিা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’র প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমিশন। ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানানোর জন্য মিয়ানমারের নেত্রী সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডেসমন্ড টুটু। এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।

মার্কিন কমিশনের আহ্বান : রাখাইনে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানানোর জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বাসসের খবরে বলা হয়, ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল মার্ক স্থানীয় সময় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা বার্মার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হওয়া নির্যাতনের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানানোর জন্য দেশটির নেতা অং সান সু চি’র প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্বাধীন নির্দলীয় কমিশন ইউএসসিআইআরএফ বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসের কাছে নীতি সুপারিশ পেশ করে। কমিশন রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলো যেন অবিলম্বে পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য সামগ্রী এবং সদাচরণ পায়, তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাকারী বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মতো আঞ্চলিক সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতা করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতায় শত শত বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যান। আগামী দিনগুলোয় এ সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু বিগত ১ বছরেই উৎপীড়ন ও সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। সর্বশেষ সংকটের আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ।

তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে, বেসামরিক লোকজনকে গলা কেটে হত্যা করছে; এমনকি তারা পলায়নরত রোহিঙ্গাদের পালানোর পথে স্থলমাইন পেতে রেখেছে। এসব কারণে গোটা এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান মিয়ানমার সরকার এবং সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাখাইন রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা প্রাণ রক্ষার্থে পলায়নরত শান্তিকামী মানুষের ওপর বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্ক বলেন, রাখাইন রাজ্যে সার্বিকভাবে নিরীহ ও নিরপরাধ রোহিঙ্গা এবং মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মির হামলারও নিন্দা জানান। মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতার নিন্দা অব্যাহত রাখছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

মিয়ানমারের নিন্দায় ইরান : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তিনি বলেন, গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, মিয়ানমার সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে তিনি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ বলতে সেনা মোতায়েনের কথা বলেননি। খবর পার্স টুডের।

খামেনেয়ি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোয় মুসলিম সরকারগুলোকে মিয়ানমার সরকারের অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংকটে যদিও ধর্মীয় রূপ থেকে থাকে, তবে তাকে কোনোভাবেই বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যকার ধর্মীয় দ্বন্দ্ব বলা যাবে না। এটি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যারা এ বর্বর হত্যাকা- ও নির্যাতন চালাচ্ছে, তারা হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার যার শীর্ষে রয়েছেন একজন নিষ্ঠুর নারী, যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এ বর্বর ঘটনার মধ্য দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারেরও মৃত্যু ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিখদের সংগঠন খালসা এইডের ত্রাণ সরবরাহ : টেকনাফে ক্ষুধার্ত ও অসুস্থ রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ করেছে শিখদের সংগঠন খালসা এইড। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে সংগঠনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমরপ্রীত সিং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, সীমান্তে পরিস্থিতি এককথায় দুর্দশাগ্রস্ত। সংগঠনটি ৫০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা করেছে।

আইএনবি:বিভূঁইয়া

এ বিভাগের আরো সংবাদ

শেয়ার করুন: