আজ পবিত্র শবে কদর

আইএনবি ডেস্ক: পবিত্র শবে কদরের রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত। সব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে শবে কদরের রাতে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-কদরে বলা হয়েছে, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম।’ গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াবের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে এই রাত অতিবাহিত করেন। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

পবিত্র রমজান মাসে দেশের অনেক মসজিদে তারাবিহর নামাজে কোরআন খতম দেওয়া হয়। আজ পবিত্র শবে কদরে মসজিদগুলোতে খতমে তারাবিহ শেষ হবে। সারা বিশ্বের মুসলমান নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি ইবাদতে কাটাবেন।

এই রাতের বিশেষ দোয়া

হযরত আয়েশা (রা.)-কে নবীজি (সা.) এই রাতে পড়ার জন্য যে দোয়াটি শিখিয়েছেন: উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’

অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন”

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহ-তাআলার দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষণ করেন এবং দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।’

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের পর এই আলোচনা সভায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।

আইএনবি/বিভূঁইয়া